স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত সরকার অর্থাৎ মুজিবনগর সরকার ভুমিকা প্রশংসনীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলার স্বাধীনতাকে আমি জনতা মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর আশার আলো দেখতে পায়। তারা প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সংগ্রহের আশায় ভারতের ভিড় জমায়। মুজিবনগর সরকার এসব তরুণদের যাচাই-বাছাই করে ভারতীয় ও বাংলাদেশী সেনাবাহিনী দ্বারা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তাদের অস্ত্র দিয়ে বাংলাদেশের যুদ্ধ ময়দানে পাঠায়। মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহতভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ ক্ষেত্রকে ১১ টি সেক্টরের বিভক্ত করে।স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য এই সংগ্রামী জনগণের মনোবল ঠিক রাখার জন্য মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায়। মুজিবনগর সরকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা হচ্ছে কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সরকারের মিশন স্থাপন এবং এসব স্থানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার প্রতিনিধি নিয়োগ করে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা। মুজিবনগর সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বহিবিশ্বে বিশেষ দুত নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব নেতাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তিবর্গ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, জাপান শহর শক্তিশালী দেশের সমর্থন লাভের মুজিবনগর সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়।