উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৫২ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সে সময় পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% লোকের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। অন্যদিকে, মাত্র 3.27% জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষা ছিল উর্দু। এতদসত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।' ছাত্র জনতা, বুদ্ধিজীবিরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর লিয়াকত আলী খান এবং ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় 'প্রতিবাদ দিবস' পালিত হয় ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় স্থির হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করা হবে।
২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি 'হরতাল' পালিত হয়। মুসলিম লীগ সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ঢাকা শহরে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সভা, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে । ছাত্রসমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সভা, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের মিছিলটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এলে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হন বরকত, আব্দুল জব্বার এবং রফিকসহ অন্তত ৪ জন। ফলে আন্দোলন আরো বেগবান হয়। এ আন্দোলনের কারণে মুসলিম লীগ সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।