উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাদৃশ্য আছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহান নেতা সমশের মুবিন জাতিকে স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাই ১৯৬৮ সালে স্বৈরাচারী সরকার তাকেসহ আরো ৩৪ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। উদ্দীপকের এ মামলা পুরোপুরিই ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে একরকম অযৌক্তিকভাবেই শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই এ রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্রে পশ্চিমাঞ্চলের আধিপত্য দেখা যায়। পূর্ব পাকিস্তান জনসংখ্যায় বৃহত্তর হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকচক্রের দ্বারা তারা অর্থনৈতিক শোষণ ও দমন-পীড়নের শিকার হতে থাকে। তাদের এ নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রথম সফল আন্দোলন ছিল ভাষা আন্দোলন। এরপর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালির প্রাদেশিক সরকারের শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলে তাতে বাগড়া দেন জেনারেল আইয়ুব খান। তিনি সামরিক শাসন জারি করার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এমতাবস্থায় তাদের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে সরকারের অত্যাচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। সরকার বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ১৯৬৮ সালের ১১ এপ্রিল দায়েরকৃত এ মামলার শিরোনাম হয় 'পাকিস্তান রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা সাদৃশ্যপূর্ণ।