উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও বাংলাদেশ সংবিধানের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মূল দলিল হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে মহিমান্বিত। বাংলাদেশ সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
প্রজাতন্ত্র: এ সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত। এখানে বলা হয়েছে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দেশের শাসনকাজ পরিচালনা করবে।
মৌলিক অধিকার: বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে একটি অধ্যায় রাখা হয়েছে। সংবিধানের ২৭ থেকে ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ আইন: বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কারণ সংবিধানের ধারার সাথে দেশের প্রচলিত কোনো আইনের সংঘাত সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে সংবিধান প্রাধান্য পাবে। সংবিধানের ৭ (২) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে— এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন । অন্য কোনো আইন যদি সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে ঐ আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে ততখানি বাতিল বলে গণ্য হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: ১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ৮নং অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্র: ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদ হবে শাসনকাজ পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয় এবং মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।