উক্ত নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নামক জোট জয়লাভ করে।উদ্দীপকের ছকটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে নির্দেশ করে। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে জয়লাভের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে মধ্য, বাম ও ইসলামপন্থি রাজনীতিক দলসমূহের ঐক্যজোট গঠিত হওয়ায় যুক্তফ্রন্টের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং নির্বাচনে বিজয় সহজতর হয়। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়। এজন্য পূর্ব বাংলার জনগণ ২১ দফার প্রতি সমর্থন জানায়। ফলে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। যুক্তফ্রন্টের জয়ের অন্যতম কারণ ছিল এর নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদৃষ্টি। হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী, মওলানা ভাসানী এবং এ.কে ফজলুল হকের মতো সুযোগ্য ও জননন্দিত নেতৃত্ব যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিলেন। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনে এদেশের ছাত্র ও তরুণ-যুব সমাজের বিশেষ ভূমিকা ছিল। মূলত তারাই সাধারণ মানুষের কাছে মুসলিম লীগের শোষণের চিত্র এবং যুক্তফ্রন্টের কল্যাণকামী কর্মসূচি পৌঁছে দিয়ে যুক্তফ্রন্টের প্রতি মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করেন। তাছাড়া মুসলিম লীগ সরকারের দুর্নীতি, তাদের জনবিচ্ছিন্নতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রভৃতি যুক্তফ্রন্টকে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছিল।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যুক্তফ্রন্ট গঠন, এর ইশতেহার এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারার ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হয়।