হ্যাঁ, উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্য আছে।লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও শাসকগোষ্ঠী তথা দায়িত্বশীলদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদ থাকায় দেশটির সংবিধান তৈরি করতে দীর্ঘ ৯ বছর সময় লেগে যায়। দীর্ঘদিন পরে সংবিধান তৈরি হলেও মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তা বাতিল হয়ে যায়। পাকিস্তানের এ সংবিধান প্রণয়নের সাথে উদ্দীপকের প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার গঠনতন্ত্র তৈরিরও মিল পাওয়া যায়।১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের ওপর দুটি কাজের দায়িত্ব ও ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। যথা- পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে কাজ করা এবং দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা। গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৪৯ সালে 'আদর্শ প্রস্তাব' নামে একটি প্রস্তাব ছাড়াও সংবিধানের মূলনীতি নির্ধারণের জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি তিনজন প্রধানমন্ত্রীর সময়কালে তিনটি রিপোর্ট প্রণয়ন করে। কোনো রিপোর্টই আলোর মুখ দেখেনি। তাছাড়া ঐ সময়ে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ অযাচিতভাবে গণপরিষদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে থাকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও গণপরিষদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে থাকে। ১৯৫৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গোলাম মোহাম্মদ দেশের বাইরে থাকাকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও গণপরিষদ গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা হ্রাসের উদ্যোগ নেয়। দেশে ফিরে গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন ও গণপরিষদ বাতিল করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। অবশেষে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নতুন গণপরিষদের করাচি অধিবেশনে 'এক ইউনিট' বিল উত্থাপন করা হয় যা ১৯৫৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গৃহীত হয়। ১৯৫৬ সালের ৯ জানুয়ারি গণপরিষদে 'সংবিধান বিল' উত্থাপিত হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস থেকে এটি কার্যকরী হয়।উদ্দীপকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অনেক স্বপ্ন নিয়ে 'প্রত্যাশা' সমাজকল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দায়িত্বশীলদের মধ্যে মতভেদ থাকায় সংস্থাটির কোনো গঠনতন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন পরে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল হয়ে যায়। উদ্দীপকের এ সংস্থাটির গঠনতন্ত্র তৈরির সাথে ইতিহাসের ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্যই লক্ষ করা যায়।