উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। নিচে এ বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো-পাকিস্তানের রাজনীতিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। নির্বাচনে পূর্ব বাংলায় আওয়মী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় সুদীর্ঘ চব্বিশ বছরের পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও মুক্তি লাভেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রকৃতপক্ষে সত্তরের নির্বাচনই বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এর মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথমবারের মতো আত্মপ্রতিষ্ঠা ও স্বশাসনের সুযোগ লাভ করে। সত্তরের নির্বাচন আরও প্রমাণ করে, আওয়ামী লীগই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক।পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে আতঙ্কিত হয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে বাধা-বিপত্তির সৃষ্টি করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। তখন জনগণের মনোভাব বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। ফলে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তারা সর্বশক্তি দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অবিচল আস্থায় সমগ্র বাঙালি জাতি আত্মচেতনার ও স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। জনগণ দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করেছিল, একমাত্র আওয়ামী লীগই তাদের বাঁচার দাবি আদায় করতে সক্ষম হবে। বস্তুত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় পরবর্তীকালে বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছে। আর এ কারণেই বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিশেষে বলা যায়, বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।