উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন উক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থাৎ পাকিস্তানের মৃত্যুবার্তী ঘোষণা করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং পাকিস্তানের মৃত্যুবার্তা বহন করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জনগণের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন।১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো আসন লাভ করতে ব্যর্থ হয়। অপরদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পি.পি.পি. সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পূর্ব পাকিস্তানে একটি আসনও লাভ করেনি। দুটি দলই অঞ্চলভিত্তিক দলে পরিণত হয় এবং নিজেদের কর্মসূচি ও দাবি-দাওয়ার প্রতি অনড় মনোভাব প্রকাশ করে। ফলে পাকিস্তানের ভাঙনও ত্বরান্বিত হয়। বিশেষ করে, ভুট্টোর অনমনীয় মনোভাব, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রতি অসহিষ্ণু ও অশোভনীয় আচরণ ও বাচনভঙ্গি পাকিস্তানের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। এ জন্য অনেকেই ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে 'পাকিস্তানের মৃত্যুর বার্তাবাহক' বলে মনে করেন।সুতরাং বলা যায়, ভাষা আন্দোলন সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয় ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ নির্বাচনি রায় মূলত পাকিস্তান রাষ্ট্রের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে। স্বাধীন বাংলাদেশের আগমনী বার্তা বহন করে এনেছিল এ নির্বাচন।