দক্ষিণ সুদানের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের দিকটির সাদৃশ্য আমি খুঁজে পাই। ১৯৪৭ সালে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। একটির নাম হয় পশ্চিম পাকিস্তান এবং অন্যটি পূর্ব পাকিস্তান। সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকার প্রথম থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল সবচেয়ে প্রকট। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের হেড অফিস ও স্টেট ব্যাংক পশ্চিম পাকিস্তানে থাকায় অর্থ পাচার হতো অবাধে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের কোনো মূলধন গড়ে উঠতে পারে নি। পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার দ্বারা পশ্চিম পাকিস্তানে শিল্প- কারখানা স্থাপিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের পাট থেকে মোট বৈদেশিক মুদ্রার তিন ভাগের দুই ভাগ অর্জিত হতো। অথচ পূর্ব পাকিস্তানের এ উৎপাদিত পাটের আয় পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো। পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণ ছিল।এভাবে জীবনযাত্রার মান, শিল্পায়ন, আমদানি খাতে ব্যয়, রাজস্ব আয় ও ব্যয়, বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ বণ্টন প্রভৃতি ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উভয় অংশের মধ্যে বড় ধরনের আর্থিক বৈষম্য ছিল।উদ্দীপকে সুদানের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, দেশটি একসময় অখন্ড রাষ্ট্র ছিল। সেখানকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে অর্জিত অর্থ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। ফলে উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে হিংসা ও অবিশ্বাসের জন্ম নেয়, দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এতে করে দক্ষিণ সুদান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। উদ্দীপকের এ দক্ষিণ সুদান অভ্যুদয়ের সাথে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির মিল লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশকেও তার স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে অনেক স্বন্দ্বের সম্মুখীন হতে হয়। অবশেষে লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা অর্জন করে।