উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পূর্ব পাকিস্তানের ছয় দফা দাবির মিল আছে। ১৯৪৭ সালে বাঙালিরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্ত হয়। এই মুক্তি তাদেরকে আর এক শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতনের কবলে পতিত করে। এই নির্যাতন অর্থাৎ পাকিস্তানিদের শোষণের বিরুদ্ধে ছয় দফা ছিল একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। উদ্দীপকে এই পদক্ষেপটিরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাষ্ট্রটি আলাদা দুটি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত হয়। এ রাষ্ট্রটি সৃষ্টির পর থেকেই এর একটি অঞ্চল শাসকদের বৈষম্যের শিকার হয়। এরই প্রেক্ষিতে শোষিতরা একটি দাবি পেশ করে। ছয় দফা দাবির ক্ষেত্রেও এমন প্রেক্ষাপট লক্ষণীয়। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্বাঞ্চলের জনগণের প্রতি নানা অত্যাচার, অবিচার, শোষণ- বঞ্চনা ও নির্যাতন শুরু করে। চাকরি, কৃষি, শিল্পসহ অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই তারা পাহাড়সম বৈষম্য তৈরি করে। পূর্ব বাংলার কাঁচামাল নিয়ে পাকিস্তানি শিল্পপতিরা উত্তরোত্তর ব্যবসার উন্নয়ন করে আর পূর্ব বাংলা অনুন্নতই থেকে যায়। এছাড়া ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ দেখা দিলে পূর্ব বাংলা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বিভিন্ন বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন। তিনি এ কর্মসূচিকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি বলে অভিহিত করেন। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা ছয় দফা আন্দোলনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।