হ্যাঁ, উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।১৯৫৪ সালের নির্বাচন পূর্ববাংলার মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ছয় বছরের পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে এ নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের এক 'ব্যালট বিপ্লব'। উদ্দীপকেরঘটনা এই বৈপ্লবিক নির্বাচনেরই ইঙ্গিত বহন করে। উদ্দীপকে দেখা যায় 'ক' রাষ্ট্রে একটি প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ফলাফলে দেখা যায় জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও ষড়যন্ত্রের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়। এমন ঘটনা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনেও লক্ষ করা যায়। এতে অংশগ্রহণের জন্যও যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোট গঠিত হয়েছিল। এতে আওয়ামী মুসলিম লীগ, নেজাম-ই-ইসলাম, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল শরিক ছিল। এরা ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। অন্যদিকে এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। তবে এ মন্ত্রিসভা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মুসলিম লীগ শাসকগোষ্ঠীর নানা চক্রান্তে আদমজী জুট মিলে বাঙালি-অবাঙালি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি, ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল ঘোষিত হয়ে পূর্ববাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ হয়। সুতরাং দেখা যায় 'ক' রাষ্ট্রের নির্বাচন ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।