উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচি অর্থাৎ ৬ দফা' ছিল বাঙালির বেঁচে থাকার দাবি।
৬ দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেশকৃত কিছু দাবি, যাঁ বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক, সামরিক অধিকারের প্রতিফলন, ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সমৃদ্ধ-বাঙালি ড্যাতীয়তাবাদের মূলে ছিল ছয় দফা কর্মসূচি, ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে একটি আন্দোলনে রূপ দান করে, এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসলই আত্যকের স্বাধীন বাংলাদেশ, এই ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতিকে প্রেরণা যুগিয়েছিল স্বৈরাচারী ও গণ-বিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে, ব্রিটিশ সরকার এই আন্দোলন দমনে যতই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল, আন্দোলন ততই দ্রুত দানা বাঁধতে থাকে, বাঙালি জাতীয়তাবাদও ততই সংহত রূপ লাভ করতে থাকে।
ছয় দফা আন্দোলনই সর্বপ্রথম এদেশে গণমুখী আন্দোলন গড়ে তোলে, ছয় দফার পরই বাঙালি জনগন আপসহীন লড়াই চালানোর শিক্ষা গ্রহণ করে। বাঙালিরা ছয় দফাভিত্তিক। স্ব-ধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে ১৯৬৯ সালে ব্যাপক গণ-আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়, এই স্বাধীনতা সংগ্রামই দিয়েছে বাঙালিকে নতুন ভূখন্ড, স্বতন্ত্র অধিকার আর মুক্তি, আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের মাইলফলক ছিল '৬ দফা। ৬ দফা ছিল বাঙালি জ্যাতির বেঁচে থাকার দাবি, মুক্তির সনদ।