উদ্দীপকে রহিমের কলেজের অধ্যক্ষের মন্তব্যের সাথে আমি একমত।
ভাষা আন্দোলনই আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে সূচনা করে, ভাষা আন্দোলনই বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, সাহস দিয়েছিল, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হয়।
বর্তমান বাংলাদেশের অধিবাসীরা একসময় পাকিস্তান রাষ্ট্রের সদস্য ছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই বাঙালিরা বিভিন্নভাবে বঞ্চিতও অবহেলিত হচ্ছিল, যেমন বেশিরভাগ জণগন বাংলায় কথা বললেও উর্দুকে জোর করে রাষ্ট্রভাষা করা হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য দাবি জানালেও সেই দাবি বিভিন্নভাবে উপেক্ষা করা হয়, উর্দু অক্ষরে বাংলার প্রচলন করার অপচেষ্টা করে, তাদের এই অপচেষ্টার বিপক্ষে ছাত্ররা রাজপথে নামে, তাদের সাথে সাধারণ জনগণ আন্দোলনে যোগ দেয়। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়। ১৯৫২ সালে ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার পরই, ১৯৭০ সালে নির্বাচন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি জাতি তার মতামতের অধিকার প্রকাশ করে, আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এভাবে বাঙালি জাতি তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে, বাঙালি জাতি তার নিজের একটা ভূখন্ড, নিজের একটা দেশ চায়, যার জন্য ১৯৭১ সালে বাঙালি, জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে আরেক সংগ্রামে। ছাত্র থেকে শ্রমিক সকলে অংশ নেয় এই যুদ্ধে, কেউ সরাসরি যুদ্ধ করে, আবার কেউ খবর সংগ্রহ করে দেয়, কেউবা আশ্রয় দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ভাষা আন্দোলনের সেই শহীদদের স্মরণ করে শহিদ হয় আরো কিছু তাজা প্রাণ, এই প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম সফল হয়।