গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছকে উল্লেখিত 'প' ব্যক্তিত্বের তথা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ব্যাপক ভূমিকা ছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'প' ব্যক্তিত্ব অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী, যা গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীকে নির্দেশ করে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণা ও আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জনগণই প্রকৃত ক্ষমতার উৎস; জনগণের ক্ষমতাই সবচেয়ে বড়। তাই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ ধরে সোহ্রাওয়ার্দী সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে গণমানুষের প্রকৃত মুক্তি আনয়নে সচেষ্ট হন।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী ছিলেন গণতন্ত্রমনা। রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ধারা চালু করার উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তানে প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দলের সৃষ্টি করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সাধারণ নির্বাচনই গণতন্ত্রের সূতিকাগার। তিনি জনগণের স্বাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তার মতে শাসনতন্ত্রের প্রশ্নে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। তিনি বিশ্বাস করতেন নির্ভুল নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র কখনোই ব্যর্থ হতে পারে না। রাজনীতিতে তিনি কখনও অনিয়মতান্ত্রিক বা ধ্বংসাত্মক পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেননি । তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের পরিবর্তে ব্যালটে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, আইনের শাসন ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। সংযুক্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন এক বিশেষ ব্যক্তিত্ব। শত প্রলোভন, নির্যাতন, লাঞ্ছনা সত্ত্বেও তিনি কোনো দিন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষ করেননি। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন নেতা ছিলেন বলেই তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়ক। তিনি বরাবরই 'বুলেটের চেয়ে ব্যালটের শক্তি বেশি'-এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই তাকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' হিসেবে অভিহিত করা হয়।