পাকিস্তানের রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটি তথা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এ গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানের যাঁতাকল থেকে মুক্তি পাওয়ার সংগ্রাম। এ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের আন্দোলন করার যোগ্যতা লাভ, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন , আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, আগরতলা মামলার মোকাবিলা করার সুযোগ, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ, জনগণের চেতনার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও শাসন কাঠামোর পরিবর্তন। এসব কারণে ৬৯ এ বাঙালি জাতির আন্দোলনের ভিত অনেক শক্ত হয়। ১৯৬৯ এর পূর্বে আইয়ুব খান নিষ্কণ্টকভাবে পূর্ববঙ্গকে শোষণ করে আসছিলেন কিন্তু ১৯৬৯ এর পর তার ক্ষমতার দণ্ড নিঃশেষ হয়ে যায়। রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন সূচিত হয়। আগরতলা মামলার প্রত্যাহার করতে আইয়ুব সরকার বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি পদত্যাগ করেন। গোলটেবিল বৈঠক, ১৯৭০ এর নির্বাচন, সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পটভূমিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিরা জয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৬৯ এর আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল চিরস্মরণীয়।