উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের সাথে 'ভাষা আন্দোলনের' পরিণতি ছিল বিপরীতমুখী।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জনগণের মধ্যে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায়। এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বাঙালিরা সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা,স্বতন্ত্র অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে। পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের সাথে শুধু ধর্মের বন্ধন ছাড়া বাঙালিদের যে আর কোন বন্ধন নেই - সে সম্পর্কে তারা প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়।তাই বাঙালি জাতি নিজস্ব ভাষার অধিকার আদায়ের পর একে একে সব অধিকারের জন্য আন্দোলন শুরু করে। বাঙালি নিজস্ব ভূখণ্ড চায়, নিজের দেশ চায়,বাঙালি হিসেবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করতে চায়। বাঙালির এই ইচ্ছার কারণে শাসকগোষ্ঠীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ তারা তাদের অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্নভাবে বাঙালি জাতিকে কোণঠাসা করতে থাকে।তাই ক্রমাগত বাঙালি জাতি ও পাকিস্তানি শাসকদের মধ্যে বৈরী মনোভাব তৈরি হয়।
উদ্দীপকে বৃহৎ একটি রাষ্ট্র তাদের বর্ণমালার স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করে।পরে শাসকগোষ্ঠী মেনে নিলে তাদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় হয়।
কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালি ও পাকিস্তানি শাসকদের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের সাথে ভাষা আন্দোলনের পরিণতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।