উক্ত কর্মসূচিকে অর্থাৎ ৬ দফা কর্মসূচিকে জনগণ তাদের বাঁচার দাবি, মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে— উক্তিটি যথার্থ।
পাকিস্তানের স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর শোষণ, নির্যাতন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছয় দফা ছিল একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এ আন্দোলন ছিল শোষকের হাত থেকে শোষিতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের হাতিয়ার।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম লিখিতভাবে স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করে যা ছিল সমগ্র বাংলার জনগণের প্রাণের দাবি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বাঙালিদের সাফল্য লাভ করার কৌশল বা সামর্থ্য আছে। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ শিল্প, কারখানা, ব্যাংক, বিমা প্রভৃতি পশ্চিম পাকিস্তানি পুঁজিপতিরা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করতো। দেশের সমুদয় সম্পদ ২২টি অবাঙালি পরিবারের মধ্যে কুক্ষিগত ছিল। বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে নস্যাৎ করার জন্য সরকার নানা টাল-বাহানা করেছিল। কিন্তু এসব উপেক্ষা করে জনমত ক্রমেই ছয়দফার প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ হতে থাকে। ছয়দফাকে তারা মুক্তির একমাত্র উপায় বলে গ্রহণ করে। কেননা নাগরিক হিসেবে মানসম্পন্ন জীবনযাপনের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দরকার তা-ই ছিল ছয় দফার বিষয়বস্তু ।
অবশেষে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে ত্বরান্বিত করে। এই দাবিতে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালিরা ১৯৭১ সালে মুক্তি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে আমরা মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, ছয়দফা কেন্দ্রিক আন্দোলনের পথ বেয়েই জন্ম নিয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ কারণেই ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।