উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেশটির রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষাকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ৫ম স্থানীয় ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ও তরুণসমাজ এ ঘোষণার প্রতিবাদ জানায় এবং তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারা পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। এ কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য শাসকগোষ্ঠী ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ঢাকায় ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি করলে শহিদ হন সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ আরো অনেকে। ফলে ভাষা আন্দোলন আরো বেগবান হয়। এ আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত হয় শহিদ মিনার। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে খালি পায়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো হয়।
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, 'নূতন চেতনা' সংঘের সদস্যগণ প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে খালি পায়ে শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানায়। যেহেতু শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত হয় এবং প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে তাদের শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানানো হয়। সেহেতু বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের কথাই মনে করিয়ে দেয়।