স্বাধীনতা অর্জনে অনুভবের বাবার মতো মুক্তিযোদ্ধা তথা শুধুই নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল বলে আমি মনে করি না। অনুভবের বাবা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। সেই হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে শুধু নিয়মিত যোদ্ধাদেরই ভূমিকা ছিল না, দেশের সবাই মিলেই এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। সেনা, পুলিশ ও ইপিআর নিয়ে গঠিত নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র- শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবিসহ সর্বস্তরের মানুষ রণাঙ্গনে লড়াই করাসহ বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এক্ষেত্রে নারীরাও পিছিয়ে ছিল না।
২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশ ও ইপিআর সদস্যরা প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্য, পুলিশ, ইপিআরসহ সকল বাহিনী এবং বেসামরিক জনগণ দেশকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া শুরু করে। যুদ্ধটা তখন সারা দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখে। এদেশের ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, মজুর, তাঁতী, শিক্ষক, কবি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়।
পরিশেষে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন শুধু নিয়মিত বাহিনীর ভূমিকা ছিল না বরং সকল শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।