উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত যে রাজনৈতিক ঘটনার সাদৃশ্য তা হলো ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচি।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রের একটি অঞ্চলের জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণে এক্যবদ্ধ হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের জনপ্রিয় নেতা শাসক গোষ্ঠীর কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করেন। এখানে 'ক' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল বলতে তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং বর্তমান বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। আর জনপ্রিয় নেতার দাবি বলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের ওপর নানা অত্যাচার, অবিচার, শোষণ ও বঞ্চনা শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেসামরিক ও সামরিক চাকরি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে পাহাড়সম বৈষম্য সৃষ্টি করে। বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকারের দাবিকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এ দাবি বা কর্মসূচি ছিল পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের ভিত্তিস্বরূপ। পাকিস্তানের শাসনকাঠামোতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবির পটভূমিকায় ৬ দফার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক। ৬ দফা ছিল মূলত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি।