উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের ঘটনা প্রবাহে পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা আন্দোলন প্রতিফলিত হয়েছে এবং বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে উক্ত দেশের ভাষা আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রবাহে এর ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। ভাষা আন্দোলন শুরুতে কেবলই ভাষা কেন্দ্রিক একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন থাকলেও অচিরেই তারা রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিণত হয়। এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ। কেননা, এর মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক চেতনায় বাঙালিরা সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা ও স্বতন্ত্র অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছিল। ভাষা আন্দোলনের জয় অর্জিত হওয়ার অনুপ্রেরণায় বিভিন্ন অসাম্প্রদায়িক ছাএ ও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালিরা তাদের ন্যায়সংহত অধিকার আদায়ের দাবি উত্থাপনের সৎ সাহস অর্জন করে। এর প্রত্যক্ষ ফল হল ১৯৫৪ এর নির্বাচনে একুশ দফা ভিত্তিক কর্মসূচি। তাছাড়া ভাষা আন্দোলনে বাঙ্গালীদের রক্তের বিনিময়ে জাতীয়তা আদায়ের শিক্ষা দেয়। সেই সাথে বাঙালি জাতি আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের সুদৃঢ় প্রেরণা লাভ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি বিয়োগান্তক ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজ সংগ্রামী চেতনায় জেগে ওঠে।ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে বৈপ্লবিক চেতনার উন্মেষ ঘটে,যা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণা যোগায়। স্পষ্টত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিভক্তিসহ এর পুরাতন অন্যান্য প্রতিটি ঘটনা প্রবাহে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ স্তর হলো বাংলাদেশ সার্বভৌম অভ্যুদয়। আর তাই বলা যায় ভাষা আন্দোলনোওর রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের এর প্রভাব সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট।