উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচন দ্বারা ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে বোঝানো হয়েছে। এ নির্বাচন উক্ত রাষ্ট্রের অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মাঝে রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙ্গালীদের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ ও স্বাধিকারের দাবির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অদ্ভুত পূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির মুক্তি লাভের আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান যে এক রাষ্ট্র হতে পারে না, সে সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হয়েছিল। এ নির্বাচন প্রমাণ করেছিল, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে জাতীয় সংহতির অভাব প্রকটভাবে বিদ্যমান। কারণ এ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলই জাতীয় সত্তা হারিয়ে ফেলে এবং আঞ্চলিক দলের পরিণত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে যে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কখনো সম্ভব নয় তা পূর্ব বাংলার নেতৃবৃন্দ এবং জনতা বুঝতে পেরেছিল। একইভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরাও এই ব্যাপারটি অনুধাবন করতে পারে এবং তারই ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতার নানা টালবাহানা করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশকে পুরোপুরি অশান্ত করে তুলেছিল। ফলে পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদের ধারণা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষণে তিনি কৌশলের স্বাধীনতার ডাক দেন।১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালি কে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ অবস্থায় ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ও মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। এ ঘোষনায় উজ্জীবিতে হয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুদীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের প্রেরণা যুগিয়েছিল।