উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শাসন-শোষণ ও বঞ্চনার হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ১৯৬৬ সালে লাহোরে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। পাকিস্তান সরকার একে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। ৬ দফা আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করে ৩৫. জন বাঙালি সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির নামে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' দায়ের করে। এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আইয়ুব খানের পদত্যাগ, ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল, 'এক ব্যক্তি এক ভোটের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব বাংলার জনগণ সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনই '৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান' নামে খ্যাত। গণঅভ্যুত্থানের কারণে সরকার ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, 'ক' রাষ্ট্রের জনপ্রিয় নেতাকে দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে আটক রাখার পর তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এতে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফলে সরকার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে জনপ্রিয় নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এখানে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের কারণেই সরকার ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে পূর্ব বাংলার জনপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মিল রয়েছে।