ছয় দফা বাঙালির মুক্তির সনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা'— উক্তিটি যথার্থ।
পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের শোষণ, নির্যাতন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছয় দফা ছিল একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। শোষিত বাঙালিদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ই ছিল এ কর্মসূচির লক্ষ্য। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছয় দফা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এ স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় এবং ছিনিয়ে নিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ জন্যই ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রথম লিখিতভাবে স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করে। পাকিস্তান সরকার এ দাবিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তবে এ অঞ্চলের জনগণ ক্রমেই ছয় দফার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে থাকে। এর ফলে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত যা ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, ১৯৭১ সালে এসে তা স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়। ছয় দফা দাবিতে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায়ই আমরা চূড়ান্ত মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলাম।
পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফাকেন্দ্রিক আন্দোলনের পথ ধরেই জন্ম নিয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। নাগরিক হিসেবে মানসম্পন্ন জীবনযাপনের জন্য যেসব সুযোগ দরকার তা-ই ছিল ছয় দফার বিষয়বস্তু। এ কারণেই এ আন্দোলন বা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।