উক্ত ঘটনা তথা ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপাকে বর্ণিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ভাষা শহীদদের আত্মদানের ঘটনা পরবর্তীকালে প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার হিসেবে পালন করেছে। ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তান শাসনামলে বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের প্রথম সফল ও ফলপ্রসূ একটি আন্দোলন। এ আন্দোলনের ফলে বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়। সেই সাথে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়। এ আন্দোলন থেকে বাঙালিরা শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হন যে, আন্দোলন সংগ্রাম ব্যতীত কোনো অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়।ভাষা আন্দোলন একটি জাতীয় চেতনার জন্ম দেয়। এ চেতনা পরবর্তীকালে সব আন্দোলন ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালিরা অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে। ১৯৬২ সালের শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলন ভাষা আন্দোলন অনুপ্রেরণা যোগায় । ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবির ভাষা আন্দোলনের ফলে উৎসারিত চেতনারই সম্প্রসারিত রূপ। একইভাবে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনেও এর প্রভাব বিদ্যমান। আর বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালি সেনানীরা যে বীরত্ব,ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শৌর্যবীর্য দেখিয়েছে, তা ভাষা আন্দোলনের দ্বারা অর্জিত বীরত্বেরই ফল। সুতরাং বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।