উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি তথা ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা জন্ম লাভ করে ;৬ দফা আন্দোলন তার বুনিয়াদকে শক্তিশালী করে। এ আন্দোলন বাঙালি জাতিকে তার স্বাধিকার আদায়ের প্রেরণা দেয়। পাকিস্তান শাসন ও শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙ্গালীরা মুক্তির উপায় খুজছিল। ছয় দফা দাবিতে বাঙালির প্রাণের আকুতি যেন ফুটে ওঠে। বাঙালির প্রাণের দাবিতে পরিণত হয় ছয় দফা। ছয় দফা আন্দোলনের চেতনা বাংলার জনগণকে উনসত্তর এর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ছয় দফা কর্মসূচির স্বপক্ষে গণরায়ের জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এ নির্বাচনের শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফার পক্ষে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন লাভ করেন। এর ওই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের ফলে একদিকে ছয় দফা কর্মসূচির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং নয় মাসব্যাপী রক্ত খেয়ে মুক্তিযুদ্ধের পর পশ্চিম পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। তাই ৬ দফা ছিল পূর্ব বাংলার জাতীয় মুক্তির সনদ। শেখ মুজিবুর রহমান যথার্থই ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির বাঁচার দাবি বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দ্বার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ছয় দফা দাবির গুরুত্ব ছিল অনস্বীকার্য। অতএব উপরে একটা আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় ৬ দফা কর্মসূচি ছিল বাংলালীর বাচাঁর দাবি বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দ্বার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ৬ দফা দাবির গুরুত্ব ছিল অনস্বীকার্য। অতএব উদ্দীপকের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ৬ দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।