উক্ত ঘটনায় তথা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরজোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বাঙালি বিজয়ের ইতিহাস রচিত হয়েছে। বীর যোদ্ধাগণ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। তারা পাকিস্তানি বাহিনীর ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নিধনে তৎপর হয়। গেরিলা বাহিনী আইয়ুব খানের বহু কুকর্মের দোসর পূর্ব পাকিস্তানের প্রাক্তন গর্ভনর মোনায়েম খানকে তার ঢাকার বাসভবনে আক্রমণ করে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাস থেকে বীরযোদ্ধাদের তৎপরতা আরো তীব্র হয়।অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ মুক্তিবাহিনীর হাতে ২৩৭ জন অফিসার, ১৩৬ জন জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর ৩৫৫৯ জন সৈন্য নিহিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী দুটি অংশ ছিল। একটি ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং আরেকটি ছিল অনিয়মিত বাহিনী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের নির্মিত্তে সেক্টর কমান্ডের বাইরেও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে কাদেরীয়া বাহিনী, বাতেন বাহিনী, হালিম বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আফসার বাহিনী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও শিক্ষক যুবকদের নিয়ে গঠন করা হয় মুজিব বাহিনী। বীর যোদ্ধাদের এসব বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ আক্রমণ ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এরপর গঠন করা হয় ভারত বাংলাদেশ যৌথ কমান্ড।যৌথ কমান্ডের তীব্র আক্রমণে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে যশোর সেনানিবাস, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা যৌথ বাহিনীর দখলে আসে। অবশেষে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের বীর যোদ্ধারা বিভিন্ন বাড়িতে যোগদানের মাধ্যমে কখনো সম্মুখ যুদ্ধে, আবার কখনো গেরিলা পদ্ধতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এ দেশবাসীকে উপহার দেয় লাল -সবুজ পতাকা। এভাবে বাঙালি চিরকাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করে।