বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত কর্মসূচি অর্থাৎ ৬ দফা কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। ৬ দফা দাবি ছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক দীর্ঘকাল ধরে পূর্ব পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা কে বাংলার কৃষক, মজুর, শ্রমিক মধ্যবিত্ত তথা আপামর জনসাধারণের মুক্তির সনদ বা আমাদের বাঁচার দাবি বলে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্দীপকের সাথেও এই বিষয়টি সাদৃশ্য রয়েছে। কোন উদ্দীপকের এক মহান নেতা জনগণের অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য কতকগুলো ৬ দফা ভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরবর্তীতে তা জনগণের মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যা বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবির সাথে হুবহু মিলে যায়। ৬ দফার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে যেসব দাবি উত্থাপিত হয়েছিল সেগুলো ছিল মূলত পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাঙ্গালীদের অধিকারের দাবি। আর ৬ দফার মধ্য দিয়ে সর্বপ্রথম পূর্ব বাংলাকে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে অধিক স্বায়ত্তশাসনাধিকার দাবি করা হয়েছিল। ৬ দফার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেন। ফলে জনগণ ৬ দফার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ৬ দফা আদায়ের পক্ষে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের তীব্রতায় ভীত হয়ে পাকিস্তানের সরকার ৬ দফাকে পাকিস্তানের অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বলে আখ্যা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহীতার অভিযোগের গ্রেফতার করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে তার মুক্তির জন্য আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু আন্দোলন চলতে থাকে। আর এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ নেয়। পরিশেষে বলা যায়, বাঙালি জাতীয় জীবনে ৬ দফা কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম।