উদ্দীপকে উল্লিখিত ম্যাগনাকার্টার সাথে বাঙালির ছয় দফার দাবির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায় ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি না হলে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার সনদ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এ ৬ দফা দাবির অন্তর্ভুক্ত ছিল শাসনতান্ত্রিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, মুদ্রা ব্যবস্থা, কর ও শুল্ক, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ দাবিগুলোর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়। এটা ছিল মূলত পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে ১২১৫ সালের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি হলো ম্যাগনাকার্টা। এ চুক্তিগুলোর শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান হল রাজ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন ছাড়া কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এখানে মূলত রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। যেটি ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবির মধ্যে উত্থাপন করা হয়েছিল। ৬ দফা দাবি ছিল মূলত বাঙালি তথা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি। এ দাবির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান এ আন্দোলনে মানুষকে পাকিস্থানের শোষণ থেকে মুক্তি নিতে চেয়েছিলেন। এ কারণে এটা কি পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাগনাকার্টা বা মুক্তির সনদ হিসেবে অভিহত করা হয়।