উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পর পূর্ব বাংলার জাগ্রত জনতার আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ঘোষণা করেন। বাঙালি ইতিহাসে এ নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান জন্ম লাভের প্রায় সাত বছর পর অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে একটি প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা হাজার ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচন বা যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন নামে পরিচিত। এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচন। পূর্ব বাংলার আইন পরিষদ নির্বাচন ঘোষিত হলে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পরাজিত করার উদ্দেশ্য মাওলানা ভাসানী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, কৃষক প্রজা পার্টির নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক শ্রমিক পার্টি,মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বে নেজামে ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর নেতৃত্বে বামপন্থী গণতান্ত্রিক দল ও আবুল হাসেমের নেতৃত্বে পাকিস্তান খেলাফতে রব্বানী পার্টি মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে । নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, যা পূর্ব বাংলার জনগণ কর্তৃক ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। ফলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সক্ষম হয়। নির্বাচনের মোট আসন ছিল ৩০৯। এর মধ্যে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ ২২৪টি আসন পেয়ে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হয়। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন প্রতীক ছিল নৌকা। উদ্দীপকের ছকে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, তা হলো- ২১ দফা,নির্বাচনী প্রতীক নৌকা,মোট আসন সংখ্যা ৩০৯ এবং ফলাফলের প্রাপ্ত আসন ২২৪ উল্লেখ করা হয়েছে , জা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে নির্দেশ করে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনকে যুক্তফ্রন্টের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।