উদ্দীপকের শাকিলার দেওয়া উপহারের ছবিতে স্থাপনটির অর্থাৎ শহীদ মিনারের সাথে সম্পর্কিত আমার পাঠ্যপুস্তক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালের পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায় পাকিস্তানি শাসকবর্ণ। প্রথম থেকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জনগণ তা মেনে নেয়নি। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন যখন ঘোষণা করেন যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু তখন ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিস ৩০ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘটের আহবান জানায়। ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানী সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। সরকারি এ ঘোষণার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শরবতলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে ছোট ছোট দলের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা ভাষা চাই স্লোগান দিয়ে মিছিল বের হয়ে ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বার সহ অনেকে নিহত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি শোক মিছিল বের করে পুনরায় গুলি করলে শফিউল্লাহ সহ আরো কয়েকজন নিহিত হয়। ছাত্ররা এই স্থানের গুলিতে নিহিত হয় সেখানে আন্দোলনকারী ছাত্ররা সারারাত জেগে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে। পরে পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙে দেয়। ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী শহীদ মিনারের থানে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশায় এ পরিকল্পনাস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালের হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙে দিলে ১৯৭২ সালে পূর্বের নকশা অনুযায়ী বর্তমান শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়
তাই বলা যায় উদ্দীপকে শাকিলার দেওয়া উপহারের ছবিতে স্থাপনাটির অর্থাৎ শহীদ মিনারের সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গভীর সুস্পষ্ট রয়েছে।