উদ্দীপকের চিত্র স্থাপনাটি যাদের ত্যাগের স্মরণে নির্মিত হয়েছে, তাদের আত্মত্যাগকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর: উদ্দীপকের চিত্রের স্থাপনাটি অর্থাৎ শহীদ মিনার যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নির্মিত হয়েছে তার ত্যাগ চিরস্মরণীয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার ছাত্র জনতার মিছিলের ওপর বর্বর রচিতভাবে গুলি চালিয়ে বাংলা ভাষার দাবি কে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালি পুলিশের গুলিতে নিহিত বরকত, রফিক, জব্বার, সালাম, শফিউল্লাহ সহ আরো অনেকের আত্মত্যাগকে ভুলেনি। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালির ভাষার অধিকার রক্ষা পায়। ছাত্ররা যেখানে নিহিত হয় সেখানে আন্দোলনকারী ছাত্ররা সারারাত জেগে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে। পরে পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙে দেয়। ১৯৬৬ সালে অস্থায়ী শহীদ মিনারের স্থানের শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশা ও পরিকল্পনা স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালের হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙে দিলে ১৯৭২ সালে পূর্বের নকশা অনুযায়ী বর্তমান শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরের বছর থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারির দিনটি বাঙালি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা এক মিনিটের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। একুশের প্রভাতফেরি যেন বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস সরকারি ছুটির দিন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এদিনের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০০০ সাল থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে সম্মানের সাথে পালিত হচ্ছে। এভাবে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও স্বীকৃতি লাভ করেছে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের চিত্র স্থাপনাটি যাদের ত্যাগের স্মরণে নির্মিত হয়েছে, তাদে…
উদ্দীপক
Sylhet · 2021
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর