উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যাপক প্রভাব ফেললেও মূলত এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। একটি দেশ বা অঞ্চলের সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো ভাষা। মূলত ভাষাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে সংস্কৃতি। আর সেই ভাষার ওপর আঘাত করা মানে সংস্কৃতির ওপরই আঘাত করা। পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকচক্র সেই কাজটাই করেছিল। তারা ৫৬.৪০ শতাংশ মানুষের ভাষা বাংলাকে বারবার উপেক্ষা করে মূলত এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকেই উপেক্ষা করতে চেয়েছিল। ফলে বাঙালিরা নিজের ভাষাকে রক্ষা এবং রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন করে। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে গণপরিষদের ভাষা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এ প্রস্তাব অগ্রাহ্য হয়। এরপর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে বলেন, 'Urdu and Urdu shall be the state language of Pakistan [গণিত] । দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষার প্রতি এরূপ অবজ্ঞার ফলে রাতারাতি জিন্নাহর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ভাষার প্রশ্নে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং নানা সভা-সমিতি এবং কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জোরালো করে তোলে। এভাবে এক পর্যায়ে এ আন্দোলন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়। এ দিন আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহিদ হন বরকত, জব্বার ও রফিক। বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক জীবনে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিদ্যমান। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক সত্তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। বাঙালিদের মধ্যে বাংলা ভাষার উন্নয়নে কাজ করার মনোভাব তৈরিতে এ আন্দোলনের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন- বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Rajshahi · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর