যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পূর্ণ গঠনে উক্ত নেতার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পূর্ণ গঠনে উক্ত নেতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। দেশের পূর্ণ গঠনে বঙ্গবন্ধু সরকারের (১৯৭২-৭৫) গৃহীত পদক্ষেপ সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো। ১. ভারতীয় সৈন্যদের দেশে ফেরত পাঠানো : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত যেহেতু সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল তাই ভারতীয় সৈন্য যুদ্ধ পরবর্তীতে বাংলাদেশে অবস্থান করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর থেকে তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সৈন্যদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ২. পূর্ণবাসন : বঙ্গবন্ধু সরকারের অন্যতম সফলতা হচ্ছে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এক কোটি লৈাককে পূর্ণবাসন করা। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করেছিলেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দান, নির্যাতিতা মা-বোনদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সরকার তার সফল কূটনীতি দ্বারা পাকিস্তানের আটকে পড়া এক লক্ষ বাইশ হাজার বাঙালিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। ৩. সংবিধান প্রণয়ন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সরকারের অন্যতম সফলতা হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের জন্য সংবিধান প্রণয়ন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি উত্তম সংবিধান প্রণয়ন সরকারের বিশেষ কর্তৃত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে রচিত সংবিধানের চারটি মূলনীতি হচ্ছে -গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। ৪. শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি : বঙ্গবন্ধু সরকার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিজ্ঞানভিত্তিক করার জন্য ১৯৭২ সালে ড. কুদরত-এ-খুদার নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কালা কানুন বাতিল করে গণতান্ত্রিক অধ্যাদেশ ৭৩ প্রণয়ন করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়কালে ৩৮ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং এ সকল স্কুলে কর্মরত এক লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষককে চাকরি সরকারিকরণ করা হয়। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশেনাও দেওয়া হয়। ৫. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সফলতা : বঙ্গবন্ধু সরকারের অন্যতম সফলতা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শুরু থেকেই বাংলাদেশের জন্য সবার সাথে বন্ধুত্ব নীতি অবলম্বন করেন। তাই বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ, ১৯৫৪ সালে জাতিসংঘ ও ইসলামী সহযোগিতা সংসার সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ ওই সময় পাকিস্তানসহ ১৪০ টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অর্জন করে। সুতরাং আলোচনার শেষে বলা যায়, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার (১৯৭২-১৯৭৫) সময়কাল যেসব সফলতা অর্জন করেন তা যুদ্ধ বিধ্বস্ত নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্য নিঃসন্দেহে বিরাট সাফল্য।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পূর্ণ গঠনে উক্ত নেতার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
Rajshahi · 2021
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর