উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট নেতার রাজনৈতিক অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট নেতা অর্থাৎ নবাব স্যার সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক অবদান অবিস্মরণীয়। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদান হলো বঙ্গভঙ্গ সমর্থন, মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি কে প্রশস্ত করা। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো - বঙ্গভঙ্গ সমর্থন : ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার মুসলমানগণ হিন্দু জমিদার ও মহাযন্ত্রের শোষণ নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়। বাঙালি মুসলমানদের এ চরম দুর্দিনে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হন। তিনি ঢাকা কে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসামকে আলাদা প্রদেশ গঠনে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সুপারিশ করেন। তার সুপারিশের ভিত্তিতে এবং ব্রিটিশ শাসকদের রাজনৈতিক স্বার্থ এক হওয়ায় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা : ১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলেও তা মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। তাই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে ও এটিকে মোকাবেলা করার জন্য মুসলমানরা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালের নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ঢাকা শাহবাগের পারিবারিক বাগানবাড়িতে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে নিখিল মুসলিম লীগ গঠিত হয়। তিনি এর সংগঠনের সহ- সভাপতি ও গঠনতন্ত্র তৈরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন। পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি : মুসলমানরা সংখ্যালঘু হওয়ায় নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে সরকার গঠন ও নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছিল না। তাই আইনসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি নিয়ে আগা খানের নেতৃত্বে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মুসলমান প্রতিনিধি দল ভাইসরয় লর্ড মিস্টোর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ প্রতিনিধি দলের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। লর্ড মিন্টো প্রতিনিধি দলের দাবি মেনে নেন। ১৯০৯ সালে মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন প্রথা স্বীকৃতি হয়। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে মুসলমানরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। আলোচনা শেষে বলা যায়, ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার্থে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান চিরস্মরণীয়।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট নেতার রাজনৈতিক অবদান মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
Sylhet · 2021
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর