গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উক্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ বা পল্লির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা হয় এবং গণতন্ত্রের ভিত আরো শক্তিশালী হয়। কেননা, গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা । ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকাণ্ডে চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদেরকে সরাসরি জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয়।
স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ অনুসারে, প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডসভা গঠিত হয়। এর বার্ষিক সভায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বিগত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং আর্থিক সংশ্লেষসহ ওয়ার্ডের চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রম উপস্থাপন করে। ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করার বিধান রয়েছে। এর ফলে ওয়ার্ড পর্যায়ে জনগণের সম্পৃক্ততা ঘটে। ফলে স্থানীয় জনগণ অধিকতর সচেতন হয়ে ওঠে। তাছাড়া বয়স্কভাতা, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ভাতা তাদেরকে কীভাবে দেওয়া হবে তা ওয়ার্ডসভাতে বসে ঠিক করা হয়। এছাড়াও যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, এসিড নিক্ষেপ, মাদকাসক্তি প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে ওয়ার্ডসভা আন্দোলন গড়ে তোলে এবং পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। আর জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কাজে গতি আসবে, গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। ফলে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হবে।