উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি অর্থাৎ ফরায়েজি আন্দোলন কেবল ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না- বক্তব্যটি যথার্থ। ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কারের উদ্দেশ্যে সূচিত হলেও পরবর্তীতে এটি কৃষকদের আন্দোলনে রূপ লাভ করে। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি কৃষকদের জমিদার, নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণ হতে মুক্ত করাই ছিল এ আন্দোলনের লক্ষ্য। বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে থেকেই মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, চাকরি, জমিদারি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার মুসলমানদের আত্মসচেতনতা সৃষ্টি করতে এ আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।হাজি শরীয়তউল্লাহ মুসলমানদের অধঃপতনের পেছনে কুসংস্কার যেভাবে ভূমিকা রাখে তা বুঝিয়ে কুসংস্কার পরিহার করতে উৎসাহী করেন। তিনি নীলকর বণিকদের অত্যাচারে সর্বস্বান্ত কৃষকদের ঐক্যবন্ধ করার চেষ্টা করেন। মুসলমানদের সার্বিক অবনতির কারণ যে ইস্ট- ইন্ডিয়া কোম্পানির দুঃশাসন তা তিনি জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি মুসলমানদের মধ্যে প্রচার করতে থাকেন, 'লাঙল যার জমি তার এবং এই জমিন আল্লাহর, সুতরাং খাজনা দেব আল্লাহকে।' ব্রিটিশ অথবা তাদের সহযোগী হিন্দু জমিদারদের কোনো খাজনা দেওয়া যাবে না। এছাড়াও তিনি সরকারি খাসমহলগুলো দখলে এনে গরিব কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করতেন। এভাবেই তিনি বাংলার নির্যাতিত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করেন। জনগণ তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।পরিশেষে বলা যায় যে, ফরায়েজি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় আন্দোলনই নয় বরং এটি কৃষক আন্দোলনও বটে।