কৃষকদের স্বার্থ আদায় ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় উক্ত নেতা অর্থাৎ মওলানা ভাসানী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।মওলানা ভাসানী বাস্তব জীবনে দেখেছেন তৎকালীন জমিদার প্রথা ও বাঙালির ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়াল চিত্র। তিনি নিজেও এসব নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ কারণেই তার কণ্ঠ জনগণের অধিকার আদায় এবং দরিদ্র কৃষকদের পক্ষে সোচ্চার হয়ে ওঠে। মওলানা ভাসানী রাজশাহীর ধূপঘাটের জমিদার, টাঙ্গাইলের সন্তোষের জমিদার, গৌরীপুরের মহারাজা এবং পাবনার সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কৃষক আন্দোলন ও বিদ্রোহ সংঘটিত করেছিলেন। তিনি নিরন্ন, অবহেলিত, অশিক্ষিত, অসহায় কৃষকদের অধিকার সচেতন করে তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৩৭ সালে আসামে 'লাইন প্রথা' নামে একটি নিপীড়নমূলক প্রথা চালু হয়। ভাসানী এই প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। অবশেষে ১৯৪৫ সালে এই প্রথা বাতিল হয়। ১৯৪৫-৪৬ সালে আসাম জুড়ে বাঙালির বিরুদ্ধে 'বাঙ্গাল খেদাও' আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এ সময় ভাসানী বাঙালিকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরে সেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়ে জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন। স্বাধীন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এদেশের কৃষক, শ্রমিক তথা আপামর জনসাধারণের ওপর শোষণ ও নির্যাতন চালায়। এ অবস্থায় পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক শাসন, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়, স্ব- শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভাসানী ছিলেন আপসহীন ও নিবেদিতপ্রাণ। পরিশেষে বলা যায়, মওলানা ভাসানী ছিলেন কৃষক, শ্রমিক তথা সমগ্র জনগণের ওপর শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। কৃষকদের স্বার্থে ও জনঅধিকার রক্ষায় তার আপসহীন ভূমিকা চির উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।