উদ্দীপকের জাভেদ আলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নেতা ছিলেন বাংলার কৃষককুলের মুক্তির অগ্রদূত- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জাভেদ আলীর সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি ছিলেন 'কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত' উক্তিটি যথার্থ। বাংলার কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।কৃষক-প্রজা আন্দোলন: জমিদার ও মহাজনদের কবল হতে কৃষক ও প্রজাদেরকে রক্ষা করা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল। শেরে বাংলার উদ্যোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সূত্রপাত হয় এবং তারা তাদের বিভিন্ন ধরনের অধিকার আদায়ে সমর্থ হয়।কৃষিঋণ আইন প্রণয়ন: ঋণভারে নিষ্পেষিত কৃষকশ্রেণির মুক্তির জন্য শেরে বাংলা ১৯১৩ সালের ৪ এপ্রিল বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় 'কৃষিঋণ আইন' পাশ করেন। দরিদ্র কৃষকগণ যাতে সহজশর্তে ঋণ পায় তার ব্যবস্থা করাই এ আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি শেরে বাংলার নেতৃত্বে ১৯২৯ সালে মুসলমান নেতাগণ কলকাতায় এক বৈঠকে 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' গঠন করেন। হিন্দু-মুসলিম সবার জন্য এ সমিতির দরজা উন্মুক্ত ছিল।ঋণ সালিসি বোর্ড গঠন: দরিদ্র কৃষকদের অবস্থার উন্নতির জন্য এবং তাদেরকে সুদখোর মহাজনদের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য ফজলুল হক মন্ত্রিসভা ১৯৩৮ সালে ঋণ সালিসি বোর্ড গঠন করে। এ আইনের বলে ৬০,০০০টি 'ঋণ সালিসি বোর্ড' স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়।বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন: শেরে বাংলার প্রচেষ্টায় এবং কৃষক-প্রজা আন্দোলনের প্রভাবে সরকার ১৯২৮ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন পাশ করে। এ আইনের ফলে প্রজাগণ কয়েকটি অধিকার লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব সংশোধন আইন পাশ করা হয়। এ আইনের দ্বারা প্রজাদের ওপর জমিদারদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা হয়।পরিশেষে বলা যায়, কৃষকদের প্রতি শেরে বাংলার উপরিউক্ত অবদানের কারণে তাকে কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত বলা হয়।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের জাভেদ আলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নেতা ছিলেন বাংলার কৃষককুলের …
উদ্দীপক
জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর