'আধুনিক শিক্ষা বিয়ারে জনাব চৌধুরী সাহেবের অবদান অপরিসীম'- মূল্যায়ন করো।
উত্তর: আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে জনাব নকিব চৌধুরী সাহেবের অবদান ও পুরুষের মূল্যায়ন করা হলো: উদ্দীপকে জনাব নকিব চৌধুরী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নন। কিন্তু তিনি একজন রাজনীতি সচেতন মানুষ। তিনি খেয়াল করলেন তার এলাকায় তার সম্প্রদায়ের মানুষ শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে। তিনি বুঝতে পারলেন আধুনিক শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কোনদিন উন্নতি করতে পারে না। তাই তিনি একটি সংগঠন তৈরি করলেন। যাতে তার সম্প্রদায়ের মানুষ আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার কারণে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা আনুকুল্যে আসে। জনাব নওকিব চৌধুরীর উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদন করা তারা বুঝাইয়া তিনি অতি ভাল মনের একজন মানুষ এবং অতি দূরদর্শী সম্পন্ন একজন মানুষ তার সাথে বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব নবাব আব্দুল লতিফের মিল পাওয়া যায়। নবাব আব্দুল লতিফ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে সাতক্ষীরায় থাকাকালীন সময়ে তিনি সেখানকার দরিদ্র নীল চাষীদের অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশা দূরীকরণে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠনেও তার অবদান ছিল। ১৮৬৩ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো মনোনীত হন। শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন যে, বাংলার মুসলিম যুবক শ্রেণীর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া উচিত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের অনীহার দরুন তারা জীবনের সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে আছে। মুসলমানদের এই আত্মঘাতী কুসংস্কার দূর করার জন্য তিনি সারাজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষাগ্রহণের জন্য তিনি দুই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছিলেন। প্রথমত ব্রিটিশের নতুন শাসন পদ্ধতির সুফল ভোগ করার জন্য মুসলমানদের প্রস্তুত করার এবং দ্বিতীয়ত, ঔপনিবেশিক সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্যের ভাব সৃষ্টি করা এবং এভাবে মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের সন্দেহ ও অনীহা দূর করা। তিনি শাসক শ্রেণীর সঙ্গে যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ পরিহারের জন্য মুসলমানদের আহ্বান জানান। তিনি জৌনপুরের মাওলানা কেরামত আলীর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত বর্ষ 'দারুণ হারব' নয় বরং 'দারুল ইসলাম। এভাবে উনিশ শতকে মুসলমানদের প্রধান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য তিনি ১৮৬৩ সালে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই সালে তিনি কলকাতায় মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ সোসাইটির লক্ষ্য ছিল আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং শিক্ষিত মুসলমান, হিন্দু ও ইংরেজদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত কথা। তাঁর প্রচেষ্ঠায় কলকাতা মাদ্রাসায় ইস্ট-ফার্সি বিভাগ খোলা হয় এবং সেখানে উর্দু ও বাংলা ভাষা শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাঁরই চেষ্টার ফলে মহসীন ফান্ডের টাকা মুসলমানদের শিক্ষার কাজে সংরক্ষিত করা হয়। রাজশাহী সরকারী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। উপরে উল্লেখিত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব নবাব আব্দুল লতিফ এর মত উদ্দীপকের নকীব চৌধুরী ও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত না হওয়ার পরেও তিনি নানান ধরনের মানবিক কল্যাণ সাধিত করেন এবং নিজের সম্প্রদায়ের মানুষদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন এবং শিক্ষা দীক্ষায় সাহায্য করেন। সাথে সবাইকে সচেতন করে ও উদ্বুদ্ধ করেন এবং শিক্ষা দীক্ষায় মানুষকে সচেষ্ট করেন। জনাব নকীব চৌধুরীও একজন দূরদর্শী সম্পন্ন মানুষ তিনিও বুঝেছিলেন যে সুশিক্ষিত না হয়ে স্বজাতি কখনোই উন্নতি লাভ করতে পারবে না তাই তিনি নিজের চেষ্টায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন তাই বলা যায় আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে নবাব আব্দুল লতিফের মত জনাব চৌধুরী সাহেবের অবদান ও অপরিসীম।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
'আধুনিক শিক্ষা বিয়ারে জনাব চৌধুরী সাহেবের অবদান অপরিসীম'- মূল্যায়ন …
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর