বাঙালির সামগ্রিক স্বাধিকার ও মুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর: বাঙালির সামগ্রিক স্বাধিকার ও মুক্তির ক্ষেত্রে তার তথা শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের অবদান চিরস্মরণীয়। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শেষদিকে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ ভারতীয় মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে লাহোর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। লাহোর প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। পাকিস্তান সৃষ্টির ফলে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক মতবিরোধের অবসান ঘটে। এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান নামক মুসলিম রাষ্ট্রটির সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও লাহোর প্রস্তাবের প্রাসঙ্গিকতা অব্যাহত থাকে। পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধিকারের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার পেছনে এ প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা লক্ষ করলে দেখা যায়, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা দাবি, ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ইত্যাদি সবকিছুর পেছনেই লাহোর প্রস্তাবে গৃহীত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টির অনুপ্রেরণা ছিল। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পাকিস্তানি শাসকদের কাছে স্বায়ত্তশাসন দাবি করে। এ দাবি পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। আলোচনা শেষে বলা যায়, বাঙালির সামগ্রিক স্বাধিকার ও মুক্তির ক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসন বাঙালির মুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে। তার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের বিজয় বাঙালিকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করেছে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
বাঙালির সামগ্রিক স্বাধিকার ও মুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান মূল্যায়ন …
চট্টগ্রাম কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর