উদ্দীপকে মো. সাইফুল্লাহর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিটি হলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাংলার ইতিহাসে অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছেন তা তাকে অমর করে রেখেছেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, শিক্ষার দীক্ষায় মুসলমানরা উন্নত না হলে তারা কোনদিন নিজস্ব সত্তা বজায় রাখতে পারবেনা। তাই তিনি মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে তার পিতার নামে ঢাকায় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করে, যা বর্তমানে বাংলাদেশে বুয়েটে নামে পরিচিত। বঙ্গভঙ্গের সময় তিনি ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয় বরং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে মুসলমানদের অবহেলিত থাকা তিনি মেনে নিতে পারেননি। হিন্দু আধিপত্য থেকে সরে এসে তিনি মুসলমানদের স্বার্থে বঙ্গভঙ্গ প্রণয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অবশেষে তার প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়। এরপর তিনি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ হিসেবে মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন গঠন করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর একান্ত প্রতিষ্ঠায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গড়ে ওঠে। তিনি মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন ব্যবস্থা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। স্পষ্টত নবাব সলিমুল্লাহর অবদান রাজনীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ছাড়াও সামাজিক ক্ষেত্রে সুবিস্তৃত।