উদ্দীপকে উল্লিখিত আমার পাঠ্য বইয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে আমরা কাঙ্খিত স্বাধীনতা পেয়েছি। তার সারা জীবনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড, আন্দোলন সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে। এ লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৯৪৮ ও ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে তার কণ্ঠ ছিল সর্বদা সোচ্চার।। 'সিক্রেট ডকুমেন্টস অফ ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দ্যা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান '- এ দুটো খন্ডের গোয়েন্দা রিপোর্টে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সক্রিয় সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ফজলুল হক মুসলিম হলে তমুদ্দিন মজলিস ও মুসলিম লীগের যৌথ সভায় রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে এখানেও সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। গোপন দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের ভাষা হিসেবে বাংলাকে গ্রহণ ও চালু করার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু তার একাধিক ভাষণে জোর দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মার্চ ঢাকায় প্রথম সফরের জিন্নাহ ঘোষণা করেন, ঊর্ধ্ব এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ঐ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অন্যতম। আন্দোলনের সূচনা ও তার সংঘটিত করতে তিনি কার্যত নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন।যে কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। খাজান নাজিমুদ্দিন কর্তৃক ২৬ জানুয়ারি ১৯৫২ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব বাংলা ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে বন্দী অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন,যা আন্দোলনের নতুন মাত্রা যুক্ত করে। এই সময়ে ভাষা সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় নেতা সোহরাওয়ার্দী উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি বিষয়ে সোহরাওয়ার্দীর অবস্থান পরিবর্তনে শেখ মুজিবুর রহমান সফল হয়েছিলেন। ঘটনার পরিক্রমায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্ররা একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সমাবেশ অনুষ্ঠান ও মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে। আন্দোলনের তীব্রতায় পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে তা স্বীকৃত হয়। বাঙালির এই পৃথিবীর একমাত্র জাতি, যারা ভাষার দাবিতে জীবন দিয়েছেন। অর্থাৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে ভাষার অধিকার চেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন, এরপর আর থেমে থাকেননি, আমৃত্যু তিনি বাংলা ভাষা গৌরব ও মর্যাদা কখনো রাখার চেষ্টা করেছেন। তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।