উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের পঠিত অবিসাংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তাহীনতা কষ্ট হয়ে উঠে এবং পূর্ব বাংলার জনগণ বুঝতে সক্ষম হয় যে, তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা তাদের নিজেদের ওপর নির্ভরশীল। পাক-ভারত যুদ্ধ ও পরবর্তী তাসখন্দ চুক্তির প্রেক্ষাপটে পশ্চিম পাকিস্তান কেন্দ্রীয় নেতারা ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলনের আহ্বান করে।সে সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। ছয় দফাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সর্বজনীন ভোটাধিকার, মুদ্রা, বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা ও পূর্ব বাংলার নিরাপত্তা সহ সকল বিষয়ে উল্লেখ ছিল। বলা বাহুল্য, ছয় দফা কর্মসূচি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সুসংঘটিত কর্মসূচি যা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি সমুন্নত করে স্বাধীনতা আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে। উদ্দীপকে বণিত নেতা দেশের শোষিত জনগণের মুক্তির জন্য সরকারের নিকট কিছু দাবি তুলে ধরেন এবং এর সমর্থনে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। উদ্দীপকের নেতার কর্মকাণ্ডের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মকাণ্ডে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের নেতার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।