দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস অসাম্প্রদায়িক নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টিতে তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিলেন। হিন্দু মুসলিম ঐক্য সমস্যা নিরসন না হলে স্বরাজ আন্দোলনের পথে অনিবার্যভাবে বাধা সৃষ্টি হবে। তিনি স্বীকার করেন, ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমান সম্প্রদায়ের ন্যায় সংগত দাবির প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন অর্থ তাদের প্রতি অবিচার করা। সংখ্যাানুপাতিক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য আইন পরিষদের আসন সংখ্যা বন্টন এবং একই ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগদারের নীতি গ্রহণের প্রশ্নে তিনি দ্বিমত করেননি। তার প্রস্তাবিত বেঙ্গল প্যাক্ট বাংলায় হিন্দু মুসলিম ঐক্যের পথ প্রশস্ত করে। বেঙ্গল প্যাক সমর্থনে চিত্তরঞ্জন দাস আইন পরিষদে বলেন, "স্বরাজের বুনিয়াদ রচনার প্রধান পক্ষ মুসলমান। স্বরাজ লাভের পর আমাদের সরকার হিন্দু না মুসলমান এরূপ কোন সংশয় যাতে আমাদের মনে জাগ্রত না হয় সেজন্য আমরা এই চুক্তিতে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ন্যায় সঙ্গতভাবে প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করেছি।,,,,, আমরা আমাদের অধিকার বর্জন করতে চাই। তা হল মৌলিক অধিকার। আমি চাই এজন্য হিন্দু মুসলিম উভয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পারস্পরিক অবিশ্বাস নির্মূল করার জন্য সংগ্রাম করে যাব। "একথা অনস্বীকার্য, বেঙ্গল প্যাক্ট হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল তরক করেছিল। চিত্তরঞ্জন দাস এই চুক্তিকে সংগত কারণেই হিন্দু মুসলিম ফেডারেশনের সাংবিধানিক দলিল বলে উল্লেখিত করেছিল।