মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে কয়েকজন বিখ্যাত ভারতবাসী ও হিউমের চেষ্টায় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন বঙ্গ ভারতের মুসলমানগন মনে করেছিলেন যে, জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে তথা আজাদী লাভের সংগ্রাম করবেন। কিন্তু মুসলমানগন স্যার সৈয়দ আহমেদের নেতৃত্বে যখন বুঝতে পারলেন যে কংগ্রেস হিন্দুদের জাতীয় সাথে গঠিত হয়েছে এবং হিন্দু নেতাগণ হিন্দু রাষ্ট্র স্থাপনের চেষ্টা করেছে,তখন তারা একটা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা করেন। অধিকন্তু যুক্তপ্রদেশে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে উর্দু ও হিন্দু ভাষা নিয়ে বিরোধ, বলগঙ্গাধর তিলক কর্তৃক গো-রক্ষা সমিতি গঠন এবং কংগ্রেসের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতা প্রভৃতি কারণে মুসলমানদের জন্য একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠানের গোড়াপতন অপরিহার্য করে তোলে।১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন উপলক্ষ্যে দেশের মুসলিম নেতৃবৃন্দ ঢাকার শাহবাগে এক অধিবেশনে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হাকিম আকমল খান, শাহ আব্দুল্লাহ, মাওলানা জাফর আলী খান, নবাব মহসিন উল মুলক ও অন্যান্য মুসলিম নেতা তার সমর্থন করেন। ফলে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ জন্মলাভ করে।