স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উল্লিখিত নেতার অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভুমিকা প্রশংসনীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি তার ভূমিকার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলন সহ সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।তিনি ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলনে বাঙালির জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। ১৯৬৬ সাল থেকে শেখ মুজিবুর পূর্ববাংলা জাতীয় নেতা হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৮ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রায় পৌনে দুই বছর কারাবাস শেষে মুক্ত হয়ে বেরুতেই আইয়ুব সরকার শেখ মুজিবুর রহমান কে প্রধান আসামি করে শেখ মুজিবুর সহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য), ১৯৬৮ দায়ের করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ২৮ জানুয়ারি এক দীর্ঘ জবানবন্দীতে তার সংগ্রামী নিয়ম তান্ত্রিক রাজনীতির অপূর্ব বাংলার প্রতি শাসকগোষ্ঠীর উপেক্ষা,শোষণ, বাঞ্ছনা ও অপশাসনের বিষয়ে নিজের ও তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় আনেন। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবন জুড়ে রাজনীতি জড়িয়ে ছিল। সমগ্র বাঙালির চোখে তিনি স্মৃতিময় বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে দিশেহারা বাঙালি সঠিক পথের সন্ধান পায় এবং প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি হয়েছেন - বাঙালির জাতির পিতা।