উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত সাদৃশ্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
বাংলার মাটিতে কয়েকজন নেতা আপামর জনতার জনপ্রিয় গণমানুষের জন্য জীবনভর সংগ্রাম করেন, মাওলানা ভাসানী তন্মধ্য অগ্রগণ্য। সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা ভাসানীর শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল গ্রামের স্থানীয় মাদ্রাসা। এরপর ইরাকি আলেম ও ধর্মপ্রচারক শাহ নাসিরুদ্দিনের আশ্রয়ে কুরআন-হাদীস ও ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষিত হয়। তিনি দেওবৃন্দ মাদ্রাসা শিক্ষালাভ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।জয়পুরহাট জেলার পাচঁবিবির একটি মাদ্রাসায় তিনি কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। এছাড়া তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থে একজন কৃষক নেতা। কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা সাথে আজন্ম পরিচিত ও নেতার সব সম্মেলন ও আন্দোলনের রাজনীতি প্রধানত দরিদ্র, অবহেলিত ও নিপীড়িত কৃষকদের সাথে পরিচালিত হয়েছিল। আসাম সরকারের কুখ্যাত লাইন প্রথা আইনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ভাষণচরে অনুষ্ঠিত কৃষক সম্মেলন প্রভৃতি কৃষক প্রজা আন্দোলন তার জ্বালাময়ী দৃষ্টান্ত। এছাড়া আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় ভাসানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন এই দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। আর ১৯৭১ সালে এই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের হাত ধারেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
উদ্দীপকের মকসুদুর রহমানের চরিত্রে মাওলানা ভাসানীর ছায়াপথ ঘটেছে। মাওলানা ভাসানী সাথে মকসুদুর রহমান ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে মাদ্রাসা শিক্ষকতা করেন। কৃষকদের অধিকার প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠায় তার অবদান মাওলানা ভাসানীর ন্যায়।
পরিশেষে সুস্পষ্ট ভাবে বলা যায় , উদ্দীপকে মকসুদুর রহমানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।