উক্ত নেতা অর্থাৎ তিতুমীরের কর্মকান্ড কেবল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তার আন্দোলন ছিল ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন। তার জীবনে কর্মকান্ড গুলো পর্যালোচনা করলেই আমরা উপলব্ধি করতে পারব।
মক্কায় হযব্রত পালন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিতুমীর নারিকেলবাড়িয়ার নিকটবর্তী হায়দারপুরে খানকা স্থাপন করেন এবং সৈয়দ আহমদ শহীদের তরিকায়ই মোহাম্মাদিয়া সুন্নি মতবাদ প্রচার শুরু করেন। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রকৃত, আদর্শ অনুযায়ী সামাজিক জীবন গঠনের ওপর আলোকপাত করেন। মুসলমান সমাজের মধ্যে অনাচার ও কুসংস্কার প্রবেশ, পীর পূজা, কবর পূজা সহ বিভিন্ন অনৈসলামিক রীতিনীতি বিরুদ্ধে মুসলিম জনমত গড়ে তোলেন। তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যে তার ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অসংখ্য মুসলমান তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন উদারমনা। তিনি ইসলামের পবিত্রতার প্রতি প্রাধান্য দিলেও হিন্দু বা অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী ছিলেন না।মোটকথা তিতুমীর সমাজ জীবনের সকল শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতনকে দূর করে আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। এ মহান উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে অত্যাধিক ও দৈহিক শক্তিতে বলিয়ান তিতুমীর সর্বশক্তি দিয়ে অত্যাচারী ও শোষক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এসব কারণে বলা যায়, তিতুমীরের আন্দোলন শুধুমাত্র কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে সীমিত ছিল না, বরং তার আন্দোলন ছিল শোষণমুক্ত সাম্য ভিত্তিক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত।