বাঙালির জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি। তার নেতৃত্ব গুণ ছিল অনন্য সাধারণ। তার সম্মোহনী ক্ষমতা, একাগ্রতা, জনস্বার্থ চিন্তা আর গণতান্ত্রিক মনোভাব তাকে এক মহান নেতায় পরিণত করেছিলেন। পাকিস্তানি সামরিক শাসনের যাঁতাকলে সব রাজনৈতিক নেতারা যেখানে আষ্টেপৃষ্ঠে কোনমতে, রাজনীতির মাঠে লড়াই করেছিল তখন বঙ্গবন্ধু ছিল আপসহীন এক সংগ্রামী নেতা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বারবার তার তর্জনী উঁচু করে পাকিস্তানের দুঃশাসনের দিকে ট্রিগার আর নিক্ষেপ করেন। তাতেই ভিত কেঁপে উঠেছে সামরিক জান্তা সরকার। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা এমনই একটা তীর ছিল। বাঙালি স্বায়ত্তশাসন এর দাবি সংবলিত ছয় দফা আন্দোলন বাঙালিকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। বাঙালি নিজেদের পরিচয় নিজেদের করণীয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। বঙ্গবন্ধুকে এর জন্য কারাবরণ করতে হয়েছে ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলায় আটক হয়ে। বঙ্গবন্ধুকে জেল মুক্ত করতে এ সময় বাঙালি গণ-আন্দোলন শুরু করে যা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ও তার দল নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে থাকে।
বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন। বাঙালি নিজেদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রু মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তার একটি ঘোষনায় বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসীম সাহসিকতায়। যার ফলাফল মাত্র নয় মাসে বাংলার স্বাধীনতা অর্জন।
আলোচনা শেষে বলা যায়, বাঙালির মধ্যে যে একাত্ম বা জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম হয়েছে তা একদিনে জন্মলাভ করেননি। এর পিছনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান সব থেকে বেশি। তার সম্মোহনী নেতৃত্ব গুণ বাঙালির মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে কঠিন জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দিয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে ভূমিকা পালন করেছে।